নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ৪৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এই চিরুনি অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গুলি, দুটি পিকআপ ভ্যান, সাতটি মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকা জব্দ করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় অপরাধীদের হেফজত থেকে এক ভিকটিমকেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই ঘটনাগুলোতে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৪০টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানান, মহানগরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস করা এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের প্রসার রুদ্ধ করতে ঢাকার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগ এবং বিশেষায়িত গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে।
ডিএমপির অপরাধ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এলাকাভিত্তিক অভিযানে সবচেয়ে বেশি অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে, যার সংখ্যা ১২৫ জন। এর বাইরে তেজগাঁও বিভাগে ৬৩ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৯ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৫৪ জনকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মহানগরীর অন্যান্য অঞ্চলে পরিচালিত অভিযানে ওয়ারী ও মতিঝিল বিভাগে ৪৭ জন করে, গুলশান বিভাগে ৩৬ জন এবং রমনা বিভাগে ৩১ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১ জন চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়।
অভিযানের সময় অপরাধীদের আস্তানা ও বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে জব্দ করা মালামালের বিবরণ প্রকাশ করেছে পুলিশ প্রশাসন। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৭০ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, এক হাজার ৬৫৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০ পুরিয়া হেরোইন এবং ৮৬ বোতল ক্ষতিকর এস্কাফ (ফেন্সিডিল) সিরাপ। মাদকের পাশাপাশি অপরাধীদের কাছ থেকে একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও অবৈধ মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি পিকআপ ভ্যান, অপরাধীদের যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে জোরপূর্বক আটকে রাখা বা নিখোঁজ থাকা এক ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে যথাযথ আইনি সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এই ধরণের নিয়মিত ও কঠোর তদারকিমূলক অভিযান নগরীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশেষ করে মেগাসিটি ঢাকার ক্রমবর্ধমান অপরাধচিত্রের প্রেক্ষাপটে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত কৌশল অবলম্বন করা জরুরি। এ জাতীয় সাঁড়াশি অভিযানের ফলে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পায়।
ডিএমপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইন এবং অন্যান্য প্রচলিত অপরাধমূলক ধারায় মামলা দায়ের করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ চলমান রয়েছে। আসামিদের পূর্ববর্তী কোনো ফৌজদারি বা বিচারাধীন পরোয়ানা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। মহানগরীকে অপরাধমুক্ত রাখতে এবং জনসাধারণের সার্বিক সুরক্ষা বিধানে এ জাতীয় জিরো টলারেন্স নীতি ও প্রতিরোধমূলক অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।