আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ধর্মীয় উগ্রবাদবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মুসলিম ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে। নতুন বিতর্কিত ধর্মীয় আইন পাস ও একাধিক প্রভাবশালী সুন্নি ইমামকে আটকের পর দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনার মুখে তিনি এই বক্তব্য দিলেন।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ও সামরিক জান্তা প্রধান ক্যাপ্টেইন ইব্রাহিম ট্রাওরে ‘উগ্রবাদী ইসলামের’ বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার কথা জানান। উগ্রবাদ প্রচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সাথে জুম্মার খুতবায় চরমপন্থা ছড়ালে সংশ্লিষ্ট ইমামদের বহিষ্কারের হুমকিও দেন তিনি। তবে যেসব ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শান্তির বার্তা প্রচার করবেন, তাদের সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন সামরিক শাসক। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট বিদেশি শক্তি ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বুরকিনা ফাসোকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।
সামরিক সরকারের এই অবস্থান বুরকিনা ফাসোর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির ধর্মীয় আইনের খসড়ার তীব্র সমালোচনা করায় মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দো নামে এক শীর্ষ সুন্নি ইমামকে আটক করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। আটকের পর থেকে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় রাজধানী ওয়াগাদুগুতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাসহ নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সরকার রাজধানীর সর্ববৃহৎ সুন্নি মসজিদটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, আটক ইমামের প্রায় ১০০ জন সমর্থককে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে একটি বন্দিশালায় পাঠিয়েছে, যেখানে তাদের ‘নাগরিক প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হবে বলে জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে একই ধরনের অভিযোগে মাহমুদ বারো নামের আরও এক প্রভাবশালী ইমামকে আটক করা হয়।
সরকার ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে গত ২০ জুন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়া নতুন ধর্মীয় আইনটি। এই আইনের অধীনে ধর্মের অপব্যবহার, শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অচ্ছচ্ছতার বিরুদ্ধে কঠোর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সামরিক জান্তার দাবি, এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো বুরকিনা ফাসোর ঐতিহাসিক ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ফিরিয়ে আনা এবং উগ্রবাদ রোধ করা। তবে দেশি-বিদেশি সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ধর্মনিরপেক্ষতার অজুহাতে সরকার মূলত দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশকে দমন করার চেষ্টা করছে।