বিশেষ প্রতিবেদক
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে এই অপপ্রয়াস প্রতিরোধে সমাজে নৈতিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের তাগিদ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, মূলত নৈতিক মূল্যবোধের অভাব থেকেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকে। ফলে মূল্যবোধের চর্চা পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠন করা এখন সময়ের দাবি।
শনিবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট সভাকক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’-এ অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসারের সাথে সাথে ভুল তথ্য ও গুজবের বিস্তার বর্তমানে জাতীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের ব্যাপক অবক্ষয় ঘটেছে। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্বে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সাধারণ মানুষের অবদানের সুযোগ সীমিত থাকলেও পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নৈতিক শিক্ষার এক শক্তিশালী চর্চা বিদ্যমান ছিল। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ও নানা ক্ষেত্রে মানবসভ্যতার অগ্রগতি হলেও মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এক ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণ করে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তোলা না গেলে ইন্টারনেটের অবাধ প্রবাহকে সুরক্ষিত ও জনকল্যাণমুখী করা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধ ও তথ্য বিকৃতির এই যুগে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক জিপিএ বা ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং তাদের সুনাগরিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সাথে তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদে আসীন ব্যক্তিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার আহ্বান জানান।
উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রতিনিধি সাইবার জগতের সাম্প্রতিক হুমকি ও তা মোকাবেলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মো. পারভেজ, ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দু মান্নান, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সাইদ সান ডিজিটাল স্পেসে সম্প্রীতি রক্ষা ও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। উপস্থিত বক্তারা সর্বসম্মতভাবে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সাইবার নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মৌলিক নৈতিক শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে গুজব ও অপপ্রচারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।