বিশেষ প্রতিবেদক
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুদ রাখা এবং শৌচাগারে সরকারি ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখার প্রমাণ পাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে এ ধরনের দায়িত্বহীনতা ও অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার সকালে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসার সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় একাধিক ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখতে পান। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান, দেশের দরিদ্র মানুষ যখন সঠিক চিকিৎসার অভাবে সরকারি ওষুধের জন্য হাহাকার করে, তখন একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাখ লাখ টাকার ওষুধ মেয়াদ পার করে ফেলে রাখা এবং তা সুরক্ষার সঠিক ব্যবস্থা না করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বরদাশতযোগ্য নয়। এ সময় স্বাস্থ্যখাতে যেকোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের বার্তা দেন তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোরেলগঞ্জ এলাকার একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রেও পরিদর্শনের জন্য যান এবং সেখানে চিকিৎসাসেবার গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চিকিৎসাসেবার সঠিক মান বজায় রাখা, প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন প্রাথমিক লক্ষ্য।
গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সুচিকিৎসা পৌঁছানোর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্ধিত শয্যার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নত ও দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মো. নাসের রিকাবদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।