আইন আদালত ডেস্ক
আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসের সংসদ অধিবেশনে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি দেশে সৃষ্টি হয়নি উল্লেখ করে সরকারের আইনগত অবস্থানের বিষয়টি তিনি পরিষ্কার করেছেন।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই তথ্য প্রকাশ করেন।
সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মামলা প্রসঙ্গের আইনগত বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে থাকায় এ নিয়ে এখনই মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। একই অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত আটজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রতি দায়ের হওয়া মামলাগুলো যদি তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে সরকারের পক্ষ থেকে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এছাড়া দেশে নারী ও শিশু সুরক্ষায় সরকারের কঠোর মনোভাব পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। অপরাধী যত প্রভাবশালী বা বড় রাজনৈতিক নেতাই হোন না কেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে রুজু হওয়া কোনো মামলা প্রত্যাহার বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদকাল ২০২৮ সালের এপ্রিলে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতা ও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৪ ও ৭৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এবং নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সাংবিধানিক এই ধারার আলোকে সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের মেয়াদকাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল ছিল। তার দায়িত্ব পালনকালেই বিশাল গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকাল সম্পন্ন হওয়ার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নিজ মেয়াদকালে তিনজন পৃথক সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান তিনি, যা দেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।