বিশেষ প্রতিবেদক
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের ‘চুক্তিভিত্তিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সনদ’ (টিএসি)-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আলখেরেইজি।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত টিএসির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান এবং ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে এই কূটনৈতিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩৩তম এআরএফ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বৈঠক ও সম্মেলনের সার্বিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারা উভয় দেশের মধ্যকার পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেন। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহ্যগত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে কীভাবে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায়—সে ব্যাপারেও দুই পক্ষ ইতিবাচক বার্তা প্রকাশ করেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশসমূহের সংস্থা বা আসিয়ান (ASEAN) কর্তৃক গঠিত এই চুক্তিভিত্তিক সনদ (TAC) মূলত অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, স্বাভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানের সঙ্গে ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সংযোগ বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামে (এআরএফ) বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব কমানো এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ম্যানিলার মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ কেবল প্রথাগত সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী অর্থনৈতিক পরাশক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ককে সমন্বিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বহুপাক্ষিক সহযোগিতার এই প্রাঙ্গণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে বাংলাদেশের বৈঠকটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
সৌদি আরব বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি আসিয়ান ব্লকের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শীর্ষ পর্যায়ের এই রূপান্তরমুখী যোগাযোগের ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আন্তর্জাতিক ত্রিমুখী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।