জাতীয় ডেস্ক
আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গণভবনে নির্মিত এই জাদুঘরটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে দিনটিকে ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
পূর্বঘোষিত একাধিক নির্ধারিত সময়ে উদ্বোধনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও, সকল অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক গণভবন প্রাঙ্গণকে মিউজিয়াম হিসেবে উন্মুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। গত বছরের আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের পতনের ঘটনাবলি ও স্মারক সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে গণভবনকে এই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন গণমাধ্যমকে সরকারের এই চূড়ান্ত প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। উদ্বোধনী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রদর্শনী সাজানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এ বছর থেকে ৫ আগস্ট তারিখটি ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ হিসেবে সরকারিভাবে উদযাপিত হবে। দিবসটি উদযাপনের অংশ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আয়োজনের রূপরেখা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) আন্দোলনকালে শহীদ হওয়া ব্যক্তিবর্গের পরিবারবর্গ এবং আহত ব্যক্তিদের সম্মানে এক বিশেষ স্মরণসভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্দোলনের চূড়ান্ত দিনে রাজধানী ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ নিয়ন্ত্রণ নেয় সাধারণ আন্দোলনকারীরা। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার বীরত্ব, সংগ্রাম ও শহীদদের স্মৃতি স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে গণভবন এলাকাকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে গণভবনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অবকাঠামো বজায় রেখে সেখানে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল, চিত্র, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং বিপ্লব সম্পর্কিত নানা স্মারক সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের ইতিহাসের প্রত্যক্ষ দলিল তুলে ধরা।
দীর্ঘপ্রতীক্ষিত এই গণজাদুঘরটি চালুর মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সংরক্ষিত রূপ দেওয়ার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল। ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটি উন্মুক্ত করার পর সাধারণ দর্শনার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে ঐতিহাসিক এই স্থানটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।