রাজনীতি ডেস্ক
চিকিৎসাসংক্রান্ত সফর সংক্ষিপ্ত করে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে তীব্র আলোচনার মধ্যে নির্ধারিত সূচির আগেই স্পিকারের এই প্রত্যাবর্তনকে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে বঙ্গভবন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। ইস্তফার আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রে শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। পদত্যাগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পটভূমিতে স্পিকারের তড়িঘড়ি দেশে ফেরা রাষ্ট্রপতির ইস্তফাসংক্রান্ত সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পাদনের পথ সুগম করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ইস্তফা দিতে চাইলে তাঁকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশ্যে নিজ স্বাক্ষরসংবলিত লিখিত পদত্যাগপত্র পেশ করতে হয়। এছাড়া সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। স্পিকার বিদেশে অবস্থান করার কারণে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার সুযোগ হচ্ছিল না। ফলে স্পিকারের দেশে ফেরার ওপরই নির্ভর করছিল রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপ।
বঙ্গভবনের সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ঢাকায় পৌঁছানোর পর এখন তাঁর সঙ্গে বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে যোগাযোগের মাধ্যম সাক্ষাতের সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র ঠিক কবে এবং কোন সময়ে স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরিত করা হবে, সাক্ষাতের সময় চূড়ান্ত হওয়ার পর সে বিষয়ে বঙ্গভবন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে নিজের স্বাক্ষরসংবলিত পত্র প্রদানের মাধ্যমে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন। অপরদিকে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু কিংবা অপসারণজনিত কারণে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকারই রাষ্ট্রপতির যাবতীয় দায়িত্ব সম্পাদন করবেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ধরনের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক শূন্যতা যাতে সৃষ্টি না হয়, সে কারণেই স্পিকারের সশরীরে দেশে অবস্থান অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।
তাছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরাই সংসদীয় ভোটপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে থাকেন।
উল্লেখ্য, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গমন করেছিলেন। পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী তাঁর আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগসংক্রান্ত সাংবিধানিক বিষয়ের কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরে এলেন।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সমন্বয়ে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র হস্তান্তর এবং অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণসংক্রান্ত প্রথাগত ধাপগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের নিকট জমা হওয়ার পরই সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে।