জাতীয় ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর নিয়ে দেশে নানা আলোচনার মধ্যে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচির আগেই দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসাসংক্রান্ত কারণে নির্ধারিত সফরের মেয়াদ কমিয়ে শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তিনি। সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাসেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক সফরে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত দেশে প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ পাওয়ার পর তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।
সংবিধানিক প্রক্রিয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগই স্পিকারের জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরার মূল কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, সার্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়ে স্পিকারের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যদি তাঁর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে চান, তবে স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত পত্র প্রদানের বিধান রয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পরিচালনা করবেন।
বিদ্যমান সংবিধানিক কাঠামোর আলোকে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। পরবর্তীতে সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদসংক্রান্ত আইনি ও শাসনতান্ত্রিক এই বিষয়গুলো জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। আগামীকাল স্পিকারের দেশে পৌঁছানোর পর উদ্ভূত পরিস্থিতির স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করছেন সরকারের দায়িত্বশীল মহল।