রাজধানী ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন শুরু হলেও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। পদত্যাগের পুরো বিষয়টি রাষ্ট্রপতির সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. সালাহউদ্দিন আহমদ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তিনি শারীরিক বা ব্যক্তিগত যেকোনো কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন এবং এতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া এই গুঞ্জনের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে কেবল আলোচনা ও গুঞ্জনই চলছে। রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল তাঁরই রয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গেই যোগাযোগ করা উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির পদে আসীন ব্যক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সাংবিধানিক সুযোগ ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতি যেকোনো সময় শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য যেকোনো ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে স্পিকারের উদ্দেশ্যে পদত্যাগপত্র পেশ করতে পারেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, রাষ্ট্রপতি যদি স্বেচ্ছায় সংবিধান নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পদত্যাগের পথ বেছে নেন, তবে সে ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভূমিকা বা করণীয় থাকে না।
গত কিছুদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও নানা মহলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করা না করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও স্পেকুলেশন তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টির গুরুত্ব সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কিংবা মন্ত্রী পরিষদ বা সরকারের কোনো দায়িত্বশীল দপ্তর থেকে এ বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক বার্তা বা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অনুপস্থিতির কারণেই মূলত জনমনে ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এ নিয়ে ধোঁয়াশা এবং কৌতুহল অব্যাহত রয়েছে।