জাতীয় ডেস্ক
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়ামেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ ধরনের একক ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চরম আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক শান্তি-স্থিতিশীলতা বিনষ্ট এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র-বাণিজ্যে গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সরকারের এই অবস্থানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা আইন বজায় রাখার স্বার্থে এমন পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রত্যাহারের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন (আনক্লস) অনুযায়ী লোহিত সাগরসহ বিশ্ব জুড়ে সব আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথে অবাধ, বৈধ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত নৌ চলাচল বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৌ চলাচলের এই সার্বজনীন স্বাধীনতার প্রতি বাংলাদেশ সরকার তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। কোনো একটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী কর্তৃক বাণিজ্যিক পথ রুদ্ধ করা আন্তর্জাতিক আইন ও সামুদ্রিক সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে লোহিত সাগরের তাৎপর্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, লোহিত সাগর হলো বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল নৌপথ। এই কৌশলগত করিডোরে যেকোনো ধরনের সামরিক বা কৌশলগত বিঘ্ন বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব জুড়ে সাধারণ মানুষের জন্য গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনবে। বিশেষ করে উদীয়মান ও আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য এই ধরনের অস্থিরতা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে চলাচলকারী সকল বাণিজ্যিক জাহাজ, নাবিক ও পণ্যের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে—এমন যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট উল্লেখ করেছে যে, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ বা সহিংস প্রক্রিয়ার বদলে কেবল সংলাপ, কূটনীতি ও গঠনমূলক শান্তিপূর্ণ সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই এ ধরনের বৈশ্বিক সংঘাতের একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আনা সম্ভব। আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস এবং পরিস্থিতির আর অবনতি রোধে অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।