1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
পরিবেশ সুরক্ষায় চারণভূমি রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে যাতে ফ্যাসিবাদ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা সমীচীন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে মাদক ও চোরাই মালসহ গ্রেপ্তার ৫০০ ওমানের মাসকাট বিমানবন্দরে আটকে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৩৬ ফ্লাইট হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর আলোচনা ঘিরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিক গ্রেপ্তার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীতে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কবলে ভারতভিত্তিক চার প্রতিষ্ঠান ও তিন নাগরিক

পিতার মৃত্যুশোক সামলে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব ও এইচএসসি পরীক্ষা, বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের পাশে শিক্ষামন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৬ বার দেখা হয়েছে

শিক্ষা ডেস্ক

পিতার আকস্মিক বিয়োগের গভীর শোক চেপে রেখে রাতের বেলায় এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীর কাজ সম্পাদন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকন দাড়িয়া। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া এই অদম্য শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের সমস্ত ব্যয়ভার এবং সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। বুথের দায়িত্ব পালন ও পরীক্ষার মানসিক চাপের মাঝে পরিবারের হাল ধরা এই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ফারহান ইশতিয়াক মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ইকন দাড়িয়াকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালে যেন ইকনকে জীবিকার তাগিদে নৈশপ্রহরীর কাজ করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই জরুরিভিত্তিতে এই আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই এই সহায়তার অর্থ তাঁর হাতে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষা সমাপ্তির পর উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ পড়াশোনা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৫) হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সংকটজনক অবস্থায় সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তাঁকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সেদিনই বাদ জোহর জানাজা শেষে মরদেহের দাফন সম্পন্ন করতে গোপালগঞ্জে পূর্বপুরুষের ভিটায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ইকনের দাদীর কবরের পাশে বাবাকে সমাহিত করা হয়। বাবার দাফনকাজ সম্পন্ন করে বাগেরহাটে ফিরে মঙ্গলবার রাতেই নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে হয় ইকনকে। সারারাত অর্থ উত্তোলন বুথে প্রহরীর দায়িত্ব পালনের পর বুধবার সকালে যথাসময়ে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে হাজির হন তিনি।

ইকন দাড়িয়া বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন ইকন। পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি অভাবের সংসারের ভার বহন করতে তিনি এই কাজ করতে বাধ্য হন। তাঁর বাবা প্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়া পেশায় একজন মোটরসাইকেল চালক ছিলেন এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ইকনের বড় ভাই ইমন একসময় বাবার সাথে পরিবারের উপার্জনে সহযোগিতা করলেও একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এর পর থেকেই পরিবারের আয়ের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন কনিষ্ঠ সন্তান ইকন।

ইকনদের মূল বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় হলেও তাঁর দাদা বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালকের চাকরি করার সুবাদে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে বসবাস করে আসছে। অবসরের পর দাদা গোপালগঞ্জে ফিরে গেলেও জীবিকার সন্ধানে ইকনের বাবা বাগেরহাটে থেকে যান। বর্তমানে শহরের একটি ভাড়া বাসায় মা এবং অসুস্থ ভাইকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ইকন। আকস্মিক পিতৃশোকে দিশেহারা পরিবারটির ভবিষ্যৎ যখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল, ঠিক তখনই এই অদম্য তরুণের সংগ্রাম সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

জীবিকার চরম বাস্তবতা এবং পিতৃশোক কাটিয়ে উঠে এক তরুণের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। শিক্ষামন্ত্রীর এই আশু পদক্ষেপের ফলে তরুণ ইকনের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ইকন এখন কাজের অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই কেবল পরীক্ষায় মনোনিবেশ করতে পারবেন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও পরিবারের পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026