বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রবাসী কার্ডধারীদের ভূমি সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। মঙ্গলবার ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই নির্দেশ প্রদান করা হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং ভূমি সচিব মো. মোখতার আহমেদসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য ভূমি অফিসগুলোতে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা (প্রাইওরিটি সার্ভিস) চালু করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া, প্রবাসে বসেই প্রবাসী ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের ব্যবস্থা করা, নামজারি বা মিউটেশনসহ অন্যান্য সেবা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা, দেশের প্রতিটি ভূমি অফিসে ‘প্রবাসী সহায়তা ডেস্ক’ গঠন এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংক্রান্ত দলিল সম্পাদনে অগ্রাধিকার প্রদান করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর প্রস্তাবনার জবাবে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম সহজ করার উদ্দেশ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হচ্ছে। অর্থনীতিতে প্রবাসীদের সার্বিক অবদানের কথা বিবেচনা করে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে তাদের জন্য নির্ধারিত সকল সেবা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
সহযোগিতা কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দিষ্ট ‘ফোকাল পয়েন্ট’ গঠন করার জন্য উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন ভূমিমন্ত্রী। এর ফলে প্রবাসী কার্ডধারী ব্যক্তিরা ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা দূরীকরণে নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা পাবেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স প্রেরকদের ভূমিকা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। বহু বছর ধরে প্রবাসী বাংলাদেশীরা নিজ দেশে ভূমি কেনাবেচা, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বিলম্বের মুখোমুখি হয়ে আসছেন। বিশেষ করে দেশে অনুপস্থিত থাকার কারণে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান ও ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রবাসী ও তাদের পরিবারকে জটিল পরিস্থিতির শিকার হতে হতো।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই যৌথ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী কার্ডধারীরা যেমন হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা পাবেন, তেমনই প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়ের বিনিয়োগ দেশে আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি প্রবাসীদের আইনগত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।