নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদান এবং উচ্চতর সামরিক শিক্ষাসহ প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সুসংহত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন। বৈঠকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যৌথ প্রশিক্ষণের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা পুনরায় স্মরণ করেন। বৈঠকে মূলত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়া কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে কৌশলগত ও সামরিক মাত্রায় আরও সম্প্রসারিত করতে আগ্রহ প্রকাশ করে।
উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনায় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কর্মকর্তা পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষার সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে ইতিবাচক মতবিনিময় হয়। বিশেষ করে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও নৌ-বাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌ-জাহাজ নির্মাণ বা শিপবিল্ডিং প্রযুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়। আধুনিক কৌশলগত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনে এ ধরনের জ্ঞান ও সরঞ্জাম আদান-প্রদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই সমন্বয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিগত বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়া আন্তর্জাতিক বাজারে সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তার সশস্ত্র বাহিনীর ফোর্সেস গোল এবং সার্বিক আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে আসছে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে এই প্রযুক্তি ও শিক্ষা আদান-প্রদানের ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক গুণগত মান ও পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করে যে, সময়োপযোগী এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা ও সিউলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে। একই সাথে প্রতিরক্ষা খাতের এই পারস্পরিক ইতিবাচক পদক্ষেপ আগামী দিনে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় ও ফলপ্রসূ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।