বাংলাদেশ ডেস্ক
২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ প্যাকেজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে সরকার। সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ প্যাকেজ ঘোষণা করেন। ঘোষিত কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি সাধারণ প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে হজযাত্রীদের সুবিধার্থে বিমানভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কম।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ঘোষিত সরকারি প্যাকেজ-১-এর মোট খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। এ প্যাকেজের অধীনে নিবন্ধিত হজযাত্রীরা পবিত্র মক্কায় হারাম শরীফের চত্বর থেকে ১ হাজার থেকে ১,৪০০ মিটারের মধ্যে এবং পবিত্র মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় মানসম্মত আবাসন সুবিধা পাবেন। মিনায় অবস্থানকালে তাঁদের জন্য জোন-২-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে এবং ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সেবা প্রদান করা হবে। এই ব্যবস্থার আওতায় মোয়াল্লেমের মাধ্যমে সরাসরি খাদ্য সরবরাহের সুব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল নির্ধারিত থাকবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন। পাশাপাশি অতিরিক্ত ফি পরিশোধ সাপেক্ষে কক্ষ আধুনিকীকরণ (রুম আপগ্রেডেশন) এবং সংক্ষিপ্ত মেয়াদি প্যাকেজ গ্রহণের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।
অপরদিকে, অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্ধারণ করা হয়েছে সরকারি হজ প্যাকেজ-২, যার খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এই প্যাকেজের সুবিধাভোগীরা মক্কায় হারাম শরীফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করবেন। তাঁদের জন্য মিনায় জোন-৫-এ তাঁবু বরাদ্দ থাকবে। হোটেল বা আবাসন স্থান হারাম শরীফ থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদির স্থানভিত্তিক বিধান অনুযায়ী বিনামূল্যে সালাওয়াত বাস বা যাতায়াত পরিবহনের সুবিধা কার্যকর থাকবে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সির মাধ্যমে হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য সাধারণ হজ প্যাকেজের সর্বমোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। নিবন্ধিত বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে নির্ধারিত ন্যূনতম কোটার ভিত্তিতে গ্রুপ গঠন করে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। তবে মূল কাঠামোর অতিরিক্ত হিসেবে সরকারি নির্দেশনার আলোকে এজেন্সিগুলো পারস্পরিক সমন্বয় সাধন করে বাড়তি সর্বোচ্চ তিনটি প্যাকেজ দিতে পারবে। তা সত্ত্বেও, কোনো এজেন্সিই সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ-২ এর সেবামানের নিচে কোনো প্রস্তাব অনুমোদন করতে পারবে না।
হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি নাগরিকবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে সরকারের এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক ও চূড়ান্ত নিবন্ধনের মাধ্যমে ই-হজ প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থার আওতায় স্বচ্ছতার সঙ্গে সমগ্র কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও নিজ নিজ অবস্থানরত দেশ থেকেই প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকাদান এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নতুন পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সৌদি আরবের সমন্বিত সেবাব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আবাসন, খাদ্য সরবরাহ, পরিবহন ও চিকিৎসা সেবায় সর্বোচ্চ নজরদারি বজায় রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হজ সংক্রান্ত তথ্যাদি সহজীকরণের মাধ্যমে হজযাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে নিরসন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।