বাংলাদেশ ডেস্ক
২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক খরচ বা প্যাকেজ ঘোষণা করা হচ্ছে আজ। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই প্যাকেজ ঘোষণা করবেন। এ বছর বিমান ভাড়া কিছুটা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যার ফলে হজযাত্রীদের সার্বিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমে বিমান ভাড়া এক লাখ ৫৪ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হতে পারে। বিমান ভাড়ার এই হ্রাসের ফলে সামগ্রিক হজ প্যাকেজের খরচ গত বছরের তুলনায় কিছুটা সহনীয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত সাধারণ মানুষের হজ পালনের বিষয়টি সহজতর করতে এবং আর্থিক চাপ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের জন্য দুটি পৃথক প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। এর আগে ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে বছর হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ)-এর আওতায় খরচ ধরা হয়েছিল ছয় লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা, হজ প্যাকেজ-২-এ খরচ নির্ধারিত ছিল পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-৩-এর খরচ ছিল চার লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। এছাড়া বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর জন্য ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ শিরোনামে পাঁচ লাখ নয় হাজার ১৮৫ টাকার একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সরকার অনুমোদিত এই মূল কাঠামোর আওতায় এজেন্সিগুলোকে অতিরিক্ত দুটি প্যাকেজ ঘোষণার সুযোগ দেওয়া হতো।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং হজযাত্রীদের জন্য কল্যাণমুখী করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত নিয়মাবলী, আবাসন ব্যয়, স্থানীয় যাতায়াত খরচ এবং বিমান ভাড়ার ওপর ভিত্তি করে মূলত হজ প্যাকেজগুলোর আর্থিক প্রাক্কলন করা হয়ে থাকে। ২০২৭ সালের হজের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে বিমান ভাড়া হ্রাসের বিষয়টি হজযাত্রীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্যাকেজ ঘোষণার পরপরই হজ নিবন্ধনের সময়সীমা, বয়সসীমা, স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম এবং অর্থ পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। এ বছর সম্ভাব্য হজ যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হতে পারে, যাতে সৌদি সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায়। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় কঠোর নজরদারি রাখবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।