আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনো অবস্থাতেই গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি স্থানীয় আইন প্রয়োগ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আটকের আইনি উপায় খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পরোয়ানা জারির পর এই ভূরাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা লাভ করেছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নির্দেশনা ও স্থানীয় আইনের আলোকে নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক শহরে প্রবেশ করলে তাকে আটক বা আইনের আওতায় আনার কোনো পথ আছে কি না, সে বিষয়ে পৌরসভার আইনি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা চলছে। মেয়রের এই অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সাথে আইসিসির জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কেউই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্যরাষ্ট্র নয়, ফলে এই আদালতের কোনো ধরনের এখতিয়ার এই দুই দেশের ওপর নেই।
মেয়র মামদানির এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বাণীতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালনা করছেন, যারা দীর্ঘকাল ধরে সাধারণ মানুষ ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের বিষয়টি আরও একবার জোরালোভাবে প্রকাশ পেল।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় সামরিক অভিযান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগে আইসিসি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির রোম স্ট্যাটিউটের স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় এবং ওয়াশিংটন এই আদালতকে স্বীকৃতি না দেওয়ায়, মার্কিন ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নেই। ফলে মার্কিন প্রশাসনের সরাসরি সুরক্ষার কারণে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আইনি জটিলতার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে এই ঘটনা স্থানীয় মার্কিন রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।