আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অতর্কিত হামলায় মালির সেনাবাহিনীর অন্তত ৫০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ২৪ জন সেনাকে বন্দী করা হয়েছে বলে স্থানীয় ও সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সামরিক বাহিনীর ওপর চালিত সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
স্থানীয় ও সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত শনিবার আনেফিস শহর ত্যাগ করা সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত বহরকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এর আগে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আনেফিস শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তুয়ারেগ বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলেছিল। জুলাই মাসের শুরুতে তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এফএলএ এবং আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী জেএনআইএম যৌথভাবে স্বল্প সময়ের জন্য শহরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। সে সময় তারা মালির সেনাবাহিনী ও তাদের সহায়তাকারী রুশ-সমর্থিত আফ্রিকা কোর বাহিনীর ব্যবহৃত একটি মূল সামরিক ঘাঁটিও অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে জেএনআইএম ও এফএলএ উভয় পক্ষই এই রক্তক্ষয়ী হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে।
মালির সামরিক প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ একজন স্থানীয় কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, হামলায় নিহত সেনার সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়ে গেছে এবং ২৪ সেনাকে জিম্মি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, এই অতর্কিত হামলায় সরাসরি সরকারি বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এত বড় একটি বহর কীভাবে এবং কেন অরক্ষিত অবস্থায় হামলার মুখে পড়ল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মালির সেনাবাহিনীকে মাঠপর্যায়ে সহায়তা প্রদানকারী রুশ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা মূল হামলার আগেই কৌশলগত কারণে গাও শহরে চলে গিয়েছিলেন। ফলে এই হামলায় রুশ বাহিনীর কোনো সদস্যের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। গাও অঞ্চলের একজন স্থানীয় কমিউনিটি নেতা নিশ্চিত করেছেন যে, হতাহতদের সকলেই মালির নিয়মিত সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য, যাদের মধ্যে কোনো রুশ নাগরিক নেই।
মালির সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে যে তাদের একটি বহর আকস্মিক অতর্কিত হামলার মুখে পড়েছিল। তবে তারা হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেনি। উল্লেখ্য, ২০২০ ও ২০২১ সালে ধারাবাহিক দুটি সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তার অধীনে বর্তমানে মালি পরিচালিত হচ্ছে। দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে চলমান জিহাদি insurgency এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা পুরোপুরি দমন করে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় ও জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মালির বর্তমান সামরিক সরকারের নিরাপত্তা কৌশল এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।