বাংলাদেশ ডেস্ক
তরুণ প্রজন্মকে মাদকের কুফল থেকে রক্ষা করে একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। রবিবার রাজধানীর শহীদ ফারহান ফাইয়াজ প্লে গ্রাউন্ড মাঠে ‘ভ্যালেরিয়ন ওয়ার্ল্ড কাপ নাইট ২০২৬’ প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মাদকাসক্তির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাদকের আগ্রাসন বর্তমান সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তরুণসমাজকে এই নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে হলে তাদের সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না, বরং এটি শৃঙ্খলাবোধ ও পারস্পরিক সহমর্মিতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়রা যে নৈপুণ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেছেন, তা প্রশংসনীয়। প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় থাকলেও দর্শক হিসেবে সবাই একটি সুন্দর ও উপভোগ্য ক্রীড়া পরিবেশ পেয়েছেন। এই ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য সুসংহত করে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ফুটবল ম্যাচ। মাঠে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং দক্ষতা দেখে মন্ত্রী অভিভূত হন। তাদের খেলা দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অংশগ্রহণকারী সব শিশুর প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে মন্ত্রী ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারী দুই দলকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ক্রীড়া সংগঠক এবং বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, মাদকের বিস্তার রোধে এবং যুবসমাজকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে নিয়মিতভাবে এই ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত থাকবে। টুর্নামেন্টটি তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে মাদকের সহজলভ্যতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তরুণদের বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় পর্যায়ে খেলার মাঠের সুরক্ষা, নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার মাদকবিরোধী লড়াইয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনতে পারে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে এনে একটি সম্ভাবনাময় আগামীর দিকে ধাবিত করতে সক্ষম হবে।