বাংলাদেশ ডেস্ক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। গত ২২ জুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা শারীরিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বা চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন, তাদের শিক্ষাজীবন যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি প্রদানের চাপ আর থাকবে না। টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসহ সার্বিক সহায়তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজর রাখছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আন্দোলনের চেতনা ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং আবাসিক হলগুলোতে পৃথকভাবে বিভিন্ন আয়োজন চলমান রয়েছে।
মাসব্যাপী কর্মসূচির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিশেষ সংকলন প্রকাশ, সেমিনার, স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা এবং প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অঙ্গসংগঠন ও বিভাগীয় পর্যায়ে এসব কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও এর অর্জিত বিজয়কে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মানবিক ও দায়িত্বশীল মনোভাবের প্রতিফলন। এটি আন্দোলনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার প্রয়াসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।