বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি জাকির হোসেন নান্নু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) ভোর ৬টায় ঢাকার বাসভবন থেকে মরহুমের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে নেওয়া হয়েছে। মরহুমের বড় ছেলে জাবেদ হোসেন জানিয়েছেন, গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাকির হোসেন নান্নু জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জাকির হোসেন নান্নুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ ছাড়াও যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
দলীয় নেতৃবৃন্দ তাদের শোকবার্তায় মরহুমের রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, জাকির হোসেন নান্নু একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। দলের প্রয়োজনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ত্যাগ সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দল একজন অভিজ্ঞ কর্মীকে হারাল, যা সংগঠনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহর কাছে মরহুমের জান্নাত নসিব এবং তার পরিবারের শোক সইবার শক্তি প্রার্থনা করেছেন।
১৯৯০-এর দশকের পরবর্তী সময় থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে জাকির হোসেন নান্নু যুবদলের একজন পরিচিত মুখ হিসেবে কাজ করেছেন। বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত তার কাজের প্রভাব ছিল। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও সরাসরি শোক জানিয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। বরিশালে স্থানীয় পর্যায়েও তার পরিচিতি ছিল ব্যাপক, ফলে তার গ্রামের বাড়িতে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করবেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।