বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকায় টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। দুর্যোগের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে না দেওয়ার লক্ষ্যে এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
বন্যায় দেশের সড়ক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যার ফলে কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও কিনারা ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, শুধুমাত্র চট্টগ্রাম অঞ্চলেই প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা পর্যায়ের সড়ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চল দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্রস্থল হওয়ায় এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ২১২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
সংস্কার কাজের কৌশল হিসেবে প্রথম ধাপে জরুরি পণ্য—যেমন খাদ্যশস্য, ওষুধ, জ্বালানি ও ত্রাণ পরিবহনের রুটগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা সদর, হাসপাতাল, শিল্পাঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ সড়কগুলো মেরামতের কাজও চলমান রয়েছে। স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগলে প্রাথমিকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অস্থায়ী মেরামত সম্পন্ন করা হবে এবং বর্ষা মৌসুম শেষে টেকসই পুনর্নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বন্যায় পণ্য পরিবহনে যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা কাটিয়ে উঠতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্কার কার্যক্রমের জন্য প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হবে, যাতে অর্থের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিলম্বিত না হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় ভবিষ্যতের সড়ক নির্মাণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন প্রকল্পে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর আওতায় উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক অধিক উচ্চতায় নির্মাণ এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সেতু ও কালভার্টগুলোর ঝুঁকি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
সড়ক বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সমন্বিতভাবে কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার এবং সড়ক বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।