ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের দুই গোলে ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। তবে মাঠের ফুটবলের ঝলকের চেয়ে ম্যাচশেষে খেলোয়াড়দের একটি রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড রক্ষণভাগ আগলে রেখে পাল্টা আক্রমণে বারবার আর্জেন্টিনার দুর্গ কাঁপিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারায় খেলা চলতে থাকে এবং ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ড এগিয়ে ছিল। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে দৃশ্যপট বদলে যায়। ৮৫ মিনিটে অধিনায়ক লিওনেল মেসির পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজ একটি চমৎকার বাঁকানো শটে গোল করে সমতা ফেরান। এরপর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে লাওতারো মার্তিনেজ হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ জয়ের পর আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা মাঠেই উল্লাসে ফেটে পড়েন। এ সময় তাদের হাতে একটি ব্যানার দেখা যায়, যাতে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার মালিকানার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে, যা ১৯৮২ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল। আর্জেন্টিনা বরাবরই দাবি করে আসছে যে, দ্বীপটি তাদের ভূখণ্ডের অংশ, যদিও বর্তমানে এটি ব্রিটিশ শাসনাধীন।
এই ঘটনা ফিফার কঠোর নীতিমালার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মাঠের ভেতরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, আপত্তিকর অথবা বৈষম্যমূলক ব্যানার, পতাকা বা পোশাক প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ধরণের কর্মকাণ্ড ফুটবলীয় নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং মাঠে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। অতীতেও এই ধরনের আচরণের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জরিমানার শিকার হয়েছে। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শন করায় ফিফা আর্জেন্টিনাকে ২০,০০০ পাউন্ড জরিমানা করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা বর্তমান ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখবে। যদি ডিসিপ্লিনারি কমিটি এই ঘটনাকে আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে গণ্য করে, তবে আর্জেন্টিনা দলের জন্য বড় ধরনের জরিমানা অথবা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তি অপেক্ষা করতে পারে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দুই দলের এই দ্বৈরথ মাঠের খেলায় দারুণ উত্তাপ ছড়ালেও, ম্যাচশেষে রাজনৈতিক বার্তার এই বহিঃপ্রকাশ টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ফিফা তাদের নিজস্ব নীতিমালা রক্ষায় কতটা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং আসন্ন ম্যাচগুলোতে এর কোনো প্রভাব পড়ে কি না। তবে সব ছাপিয়ে আর্জেন্টিনার নাটকীয় এই জয় ফুটবল সমর্থকদের মাঝে দীর্ঘ সময় আলোচনার খোরাক হয়ে থাকবে।