অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে কারখানাটির গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টার পর সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি কম থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর ৪টার দিকে কারখানার গুদাম থেকে হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো গুদামে ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট। আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে আদমজী, কাঁচপুর, শিবু মার্কেট ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মোট ১১টি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। এর মধ্যে ৯টি ইউনিট সরাসরি আগুন নেভানোর কাজে অংশগ্রহণ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত দুটি ইউনিটকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কারখানার গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল ও সরঞ্জামাদি পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতগুলো মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। কারখানার কর্তৃপক্ষ এবং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কি না এবং আগুন লাগার প্রকৃত উৎস কী, তা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। আমাদের প্রাথমিক অগ্রাধিকার ছিল আগুন যাতে আশেপাশের অন্য কোনো কারখানায় বা গুদামে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
আদমজী ইপিজেডের নিরাপত্তা ও পরিচালনা পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, কারখানা কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের উৎস অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। কারখানাটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ছিল কি না এবং জরুরি প্রস্থান পথগুলো সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখবে।
শিল্পকারখানায় এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা কারখানার ভেতরের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ডাম্পিং ডাবের কাজ করছেন যাতে পুনরায় আগুনের সূত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।