1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৭৩৪ দেশের সাত জেলায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস গণতন্ত্রে উত্তরণ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: ফ্রান্স-বাংলাদেশ সহযোগিতার প্রসার ক্যান্সার চিকিৎসায় গতি আনতে আইএনএমপি ও জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের সমঝোতা বাংলাদেশে নতুন শিল্প বিনিয়োগের প্রধান চালিকাশক্তি চীনা উদ্যোক্তারা রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর সাপ্তাহিক ইমামতি ও নামাজের সময়সূচী প্রকাশিত সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু আর্জেন্টিনার সাফল্যে বাংলাদেশের সমর্থকদের উৎসর্গ: স্কালোনির কৃতজ্ঞতা ইপিজেডে চীনা বিনিয়োগের নতুন জোয়ার: বৈচিত্র্য আসছে শিল্প খাতে

বাংলাদেশে নতুন শিল্প বিনিয়োগের প্রধান চালিকাশক্তি চীনা উদ্যোক্তারা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোতে অর্জিত বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির সিংহভাগই এসেছে চীন থেকে। চলতি অর্থবছরে মোট ৭১ কোটি ৭৭ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা পড়েছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশ বা ৪৯ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার এসেছে সরাসরি চীনা মালিকানাধীন কিংবা চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। এ ধারা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের শিল্পখাতে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীন বর্তমান সময়ে প্রধান অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের সাথে জমি ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ২৩টি প্রতিষ্ঠানই চীন-সংশ্লিষ্ট। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ চীনা মালিকানাধীন (হংকংভিত্তিকসহ) এবং বাকিগুলো বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের যৌথ উদ্যোগ। এই বিনিয়োগের ধরনেও এসেছে বড় ধরণের পরিবর্তন। এতদিন চীনা বিনিয়োগ মূলত তৈরি পোশাক খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা উচ্চমূল্য সংযোজন শিল্পের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমানে ড্রোন, সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, লজিস্টিকস, তামাজাত পণ্য, স্বয়ংক্রিয় হাইড্রোপনিক কৃষি ব্যবস্থা, জুতা ও প্যাকেজিং উপকরণের মতো বৈচিত্র্যময় খাতে বিনিয়োগ করছেন চীনা উদ্যোক্তারা।

বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এএসএম আনোয়ার পারভেজ জানান, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন বিনিয়োগ সেমিনার ও ওয়ান-টু-ওয়ান সংলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে কর্মরত বিদ্যমান চীনা বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। তারা এখন স্থানীয়ভাবে নিজেদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরি করছেন, যা পরোক্ষভাবে আরও নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর এই বিনিয়োগ সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সফরের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে চীনের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের সমঝোতা ও বিনিয়োগ চুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে ‘চীন-বাংলাদেশ মোংলা পোর্ট ইকোনমিক জোন’ গড়ে তোলার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন উন্নয়নের জন্য ডেভেলপার চুক্তি।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় দেশটির বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠান জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে ৯২১ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এই বড় অঙ্কের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব প্রকল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, তারা বিনিয়োগের পাইপলাইন তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান প্রস্তাবগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে চীনে বিডার নিজস্ব অফিস স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে এবং বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ‘চায়না ডেস্ক’ ও অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো চীনা উদ্যোক্তাদের আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে। আনোয়ারার অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতিমধ্যে ৩০টিরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা বাংলাদেশের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি এবং আইটি-সক্ষম সেবাকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করে চীন থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান বিনিয়োগ প্রস্তাব ও জমি ইজারা চুক্তিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম হবে। নীতিগত স্থিতিশীলতা ও বিশেষ সহায়তা কাঠামোর মাধ্যমে এই চীনা বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদী শিল্প প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তর করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026