1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রকৃতিবিরোধী অবকাঠামো নির্মাণের কারণে দেশে বন্যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কর্মকৌশল কমিটি গঠন গত জুন মাসে ৫৩০ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬২, আহত ৭৫০ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার ঘোষণা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার কৌশল: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সরকারের বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সরকারের রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা পূর্বের পূর্ণাঙ্গ রূপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ইসলামাবাদে ওআইসি নারী সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ: ইরান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে বাংলাদেশে আগামী বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পরিবেশের সুরক্ষায় দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সরকারের

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের বন্যাকবলিত ১১টি জেলায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বন্যাকবলিত এলাকায় মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিলসহ জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় অর্থনীতি এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসাকর্মী, পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, খাবার স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও প্রসবকালীন সেবার সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অতিরিক্ত মেডিকেল টিম প্রেরণের প্রস্তুতিও রয়েছে সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ মোট ১১টি জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সেবার মান বজায় রাখতে এবং প্রতিটি জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করার জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতিতে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়া এবং সাপে কাটা রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে বিশদ তথ্য দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বন্যা শুরুর প্রথম রাতেই সাপে কাটা পাঁচজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং তারা বর্তমানে সুস্থ আছেন। বন্যা পরিস্থিতির শুরু থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত মোট ৯৫ জন সাপে কাটা রোগীকে সফলভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার মানুষকে সচেতন করে মন্ত্রী আহ্বান জানান, সাপে কাটার ঘটনায় কোনো প্রকার ওঝা বা কবিরাজের শরণাপন্ন না হয়ে রোগীকে যেন অনতিবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

অ্যান্টিভেনমের মজুত প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে এবং কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই। বর্তমানে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এক হাজারের বেশি ভায়াল এবং জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল অ্যান্টিভেনম সংরক্ষিত আছে। এছাড়া আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল অ্যান্টিভেনম সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।

সচিব আরও উল্লেখ করেন, বন্যা চলাকালীন এবং বন্যাপরবর্তী সময়ে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওআরএস, খাবার স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র মজুত রাখা হয়েছে। নিরাপদ পানির সংকট দূরীকরণে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের (রেফারেল) বিশেষ ব্যবস্থাও সচল রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, মাঠপর্যায়ের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিকদের জরুরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ‘১৬২৬৩’ এবং ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’-এর মাধ্যমে দুর্গত এলাকার মানুষ ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ গ্রহণ করতে পারছেন। একই সাথে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে কেন্দ্রীয়ভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026