বিশেষ প্রতিবেদক
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আয়োজিত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নারী বিষয়ক দুই দিনব্যাপী নবম মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেছে। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন এবং জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
১২ ও ১৩ জুলাই ইসলামাবাদের জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই সম্মেলনে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুল হক। এছাড়া পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খানও সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সাথে যোগ দিয়েছেন।
সম্মেলনের মূল কর্মসূচির পাশাপাশি গত রবিবার সাইডলাইনে বাংলাদেশের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ইরানের নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট যাহ্রা বেহেরোজ আযারের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান এবং ইরানের ডেপুটি হেড অব মিশন নাবি ওল্লাহ সিরাজি উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উভয় নেতা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে ইসলামিক উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের মন্ত্রী বিভিন্ন খাতে দেশের নারীদের উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন এবং অগ্রগতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষায় সম্প্রতি প্রবর্তিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। একই সাথে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু এবং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নে ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট যাহ্রা বেহেরোজ আযার সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি মুসলিম বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে বাংলাদেশকে একটি কার্যকর ‘রোল মডেল’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং নারী উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক কল্যাণে নারী উন্নয়নে সকল মুসলিম দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে কাজ করার গভীর অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীকে ইরান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওআইসি-র এই মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলন এবং এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং জেন্ডার সমতা ও নারী প্রগতির ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতের এই সহযোগিতা আগামীতে আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।