বিশেষ প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বেথেসডায় অবস্থিত ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে সর্বশেষ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরীক্ষা শেষে তিনি দাবি করেছেন, শারীরিক মূল্যায়নের পাশাপাশি মানসিক (কগনিটিভ) দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষাতেও তিনি শতভাগ নম্বর পেয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর দেওয়া কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জনসমক্ষে আনেন।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি প্রতি ছয় মাস অন্তর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে থাকেন। তবে এবার নিজের আগ্রহেই অতিরিক্ত হিসেবে কগনিটিভ পরীক্ষা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একমাত্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তিনবার এই মানসিক দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং প্রতিবারই প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হয়েছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর মানসিক কার্যক্ষমতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ভুলবশত ‘ভ্লাদিমির পুতিন’ এবং ইরানকে ‘ইসলামিক স্টেট অব জাপান’ বলে সম্বোধন করার পর তাঁর সক্ষমতা নিয়ে জনমনে এবং রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায় যে ট্রাম্প অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি কোনো জরুরি অসুস্থতার কারণে নয়, বরং পূর্বনির্ধারিত ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অবশ্য তিনি এই হাসপাতাল সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সময় প্রকাশ করেননি।
এর আগে গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার একটি আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। ২৬ মে ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনে ট্রাম্পের সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে ‘চমৎকার’ বলে মূল্যায়ন করা হয়। ওই সময় পরিচালিত ‘মন্ট্রিয়াল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট’ (এমওসিএ) পরীক্ষায় তিনি ৩০ নম্বরের মধ্যে পূর্ণ ৩০ নম্বরই অর্জন করেন এবং তাঁর স্নায়বিক (নিউরোলজিক্যাল) পরীক্ষায় কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা জটিলতা ধরা পড়েনি।
প্রেসিডেন্টের এই স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এই পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। চিকিৎসকদের গোপনীয়তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যে কোনো অস্পষ্টতা বা গোপনীয়তা রাখা হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত ও পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।