1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান হামলা বিজ্ঞাপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার প্রকাশ করবে গুগল বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ট্রাম্পের দাবি: স্বাস্থ্য ও মানসিক পরীক্ষায় তিনি শতভাগ সফল সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা তিব্বতি কর্মীর মৃত্যুর বর্ষপূর্তিতে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ, আটক ৩ আজ দুপুর ১২টায় প্রকাশ করা হচ্ছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের শেষ টি-টোয়েন্টিতে সূর্যবংশীর বাদ পড়া ও দলের ব্যর্থতা টানা বর্ষণে রাজধানীতে তীব্র জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে নগরবাসী; চট্টগ্রাম বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩

তিব্বতি কর্মীর মৃত্যুর বর্ষপূর্তিতে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ, আটক ৩

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তিব্বতে চীনের দমনমূলক নীতি এবং তিব্বতি কর্মী লোবগা রাংজেনের আত্মাহুতির ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন নির্বাসিত তিব্বতি অধিকারকর্মীরা। ‘স্টুডেন্টস ফর অ্যা ফ্রি তিব্বত’ (এসএফটি) নামক সংগঠনের তিন সদস্য জাতিসংঘ ভবনের প্রধান ফটকে নিজেদের শিকলবদ্ধ করে এই অবস্থান ধর্মঘট ও প্রতিবাদ জানান। তিব্বতের অবনতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এবং চীনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে জাতিসংঘ ভবনের প্রবেশপথ অবরোধের দায়ে তিন তিব্বতি কর্মীকে আটক করে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (এনওয়াইপিডি)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিব্বতি অধিকারকর্মী লোবগা রাংজেনের জাতিসংঘ ভবনের সামনে আত্মাহুতি দেওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত এক বছরেও তিব্বতের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিব্বতের স্বায়ত্তশাসন ও অধিকার রক্ষায় বিশ্ব সংস্থার এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন।

পূর্বে রাংজেনের আত্মাহুতির ঘটনার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক এটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। তবে আন্দোলনকারী তিব্বতি সংগঠনগুলোর মতে, কেবল আনুষ্ঠানিক সমবেদনা প্রকাশ তিব্বতের সংকটের স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিব্বতে চীনের কথিত পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন বন্ধে বিশ্ব সংস্থাকে প্রকাশ্য ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সাথে তিব্বতের অভ্যন্তরে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য চীনের ওপর চাপ প্রয়োগের দাবিও তোলা হয়। কর্মসূচি চলাকালীন স্থানীয় তিব্বতি সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ সদর দপ্তরের সামনে সমবেত হয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

নিরাপত্তা বিঘ্নিত ও প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করার অভিযোগে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ তেনজিন তসেতেন, তসেলা জোকসাং এবং তেনজিন কুনচক নামের তিন বিক্ষোভকারীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের মুচলেকা ও নির্দিষ্ট কিছু শর্তে ছেড়ে দেওয়া হলেও, তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি ও অবৈধ সমাবেশের একাধিক আইনি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালীন এসএফটির ক্যাম্পেইন পরিচালক তসেলা জোকসাং গণমাধ্যমকে বলেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল তিব্বতের নিজস্ব জাতিগত পরিচয়, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর চীনের চলমান একীভূতকরণ নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তিনি দাবি করেন, স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দাবিতে চীনা শাসনের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গত কয়েক বছরে ১৭০ জনেরও বেশি তিব্বতি আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছেন, যা এই অঞ্চলের সংকটের গভীরতা নির্দেশ করে।

আন্দোলনকারীরা সম্প্রতি চীনের কার্যকর করা ‘এথনিক ইউনিটি অ্যান্ড প্রগ্রেস আইনের’ তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, এই নতুন আইনের মাধ্যমে তিব্বতে তিব্বতিদের মূল চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিব্বতি শিশুদের জোরপূর্বক মান্দারিন ভাষার আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানো, যাযাবর জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জীবনধারা পরিবর্তন এবং তিব্বতের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে পদ্ধতিগতভাবে দুর্বল করার প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এই বিক্ষোভ জাতিসংঘের ওপর নতুন করে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026