বিশেষ প্রতিবেদক
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। গতকাল রবিবার রাত ১১টায় তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। গত ২ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন তিনি। তেহরানের গ্র্যান্ড মসাল্লায় আয়োজিত এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সফরকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দের সাথে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষে শোকসন্তপ্ত ইরানি জাতির প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং শোকবার্তা পৌঁছে দেন। ইরানের এই জাতীয় শোকের সময়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সফরকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের ইসলামি পরামর্শসভার (পার্লামেন্ট) স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সাথেও এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে স্পিকার সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইরানের স্পিকারের গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনীতিতে এই শান্তি সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণ দুই দেশের সংসদীয় কূটনীতি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর প্রয়াণ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তাঁর শেষকৃত্যে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব তেহরানের সাথে ঢাকার কৌশলগত ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।