রাজধানী ডেস্ক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণে কোনো ধরনের অনিয়ম অথবা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও টেন্ডার বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। শনিবার সকালে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে আয়োজিত ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে ডিএসসিসির চলমান ডেঙ্গু বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে ৬৫ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিটি নাগরিক ও ব্যবসায়ীর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও বিপণিবিতানগুলো থেকে প্রায়শই ময়লা-আবর্জনা রাস্তার মাঝখানে ফেলে রাখা হয়, যা মহানগরের পরিবেশ ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এখন থেকে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট বিন বা পাত্রে আবর্জনা সংরক্ষণ করতে হবে এবং সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা শহরের ফুটপাত ও রাস্তায় যত্রতত্র হকার বসার কারণে সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মো. আবদুস সালাম বলেন, জীবিকার তাগিদে হকাররা ব্যবসা করলেও তারা নিজ নিজ এলাকার বর্জ্য পরিষ্কার করছেন না। ফলে শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হচ্ছে। হকারদেরও একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় এসে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে কেবল সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে পুরো ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়।
নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগের বরাত দিয়ে প্রশাসক জানান, অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে না এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনসাধারণের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা দায়িত্ব অবহেলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আগামীতে সেসব সংস্থাকে আর কোনো কাজের টেন্ডার বা কার্যাদেশ দেওয়া হবে না।
এদিকে বর্ষা মৌসুমে রাজধানী জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন প্রশাসক। তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ডে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করতে একটি বিশেষ জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জরিপকৃত বাসাবাড়ি ও স্থাপনার মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ স্থানেই এডিসের লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন মশক নিধনে নতুন ও কার্যকর ওষুধ ব্যবহার শুরু করেছে বলে জানান তিনি। যেসব দুর্গম বা আবদ্ধ স্থানে ঐতিহ্যগত স্প্রে বা ফগিং মেশিন নিয়ে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেসব স্থানে লার্ভিসাইড ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাসপাতাল ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত চিকিৎসার সরঞ্জাম মজুত রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি নগরবাসীকে নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে এবং কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান।