আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ করেছে। এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটিতে থাকা চারজন ক্রু সদস্যের মধ্যে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ওই সেনানীকে উদ্ধারে সমুদ্রে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত বুধবার মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’-এ নিয়োজিত একটি এমএইচ-৬০আর সি হক হেলিকপ্টার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আরব সাগরের ওপর উড্ডয়নরত ছিল। উড্ডয়নকালে যান্ত্রিক বা অন্য কোনো কৌশলগত জটিলতা দেখা দিলে হেলিকপ্টারটি সাগরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তবে সামরিক কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার পেছনে শত্রুপক্ষের কোনো হামলা, নাশকতা কিংবা কোনো ধরনের বৈরী আক্রমণের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এটি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, দুর্ঘটনার পরপরই নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হেলিকপ্টারটির চারজন ক্রুর মধ্যে তিনজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত তিন ক্রু সদস্যকে অতি দ্রুত বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রণতরীর মেডিকেল ইউনিটে বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই তিন ক্রুর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এদিকে নিখোঁজ থাকা চতুর্থ ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করতে দুর্ঘটনাস্থল ও এর আশেপাশের বিশাল সমুদ্র এলাকা জুড়ে জোরদার অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে থাকা একাধিক নৌ ইউনিট, যুদ্ধজাহাজ এবং বিশেষায়িত বিমান যৌথভাবে এই অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে। নিখোঁজ সেনার সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত এই উদ্ধার অভিযান বিরতিহীনভাবে চলবে বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে।
কী কারণে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই সি হক হেলিকপ্টারটি আরব সাগরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল, তার প্রকৃত উৎস ও কারণ উদঘাটন করতে মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও কারিগরি দিকগুলো খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। মার্কিন নৌবাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব সাগরীয় অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক নৌ টাস্কফোর্স নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এই ধরনের কৌশলগত এলাকায় মার্কিন রণতরী থেকে পরিচালিত সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার মূল কারণ ও সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।