অর্থনীতি প্রতিবেদক
বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের বর্তমান শিল্প খাতের আধুনিকায়ন ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদা পূরণে অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই কর্মসূচির আওতায় সরকারি বিনিয়োগের বিপরীতে উচ্চমাত্রার সুফল পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীতে বিটাকের ২০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। বিটাকের মহাপরিচালক মো. ফিরোজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান। দেশের শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বেকারত্ব দূরীকরণে এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
শিল্পমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অতীতে দেশে বাস্তবায়িত অনেক প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা আশানুরূপ ফলাফল অর্জিত না হলেও বিটাকের এই বর্তমান প্রকল্পটি একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী প্রায় ১৬ হাজার তরুণ-তরুণীকে সম্পূর্ণ বাস্তবমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যা তাদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিন মাস মেয়াদি এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কেবল কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগই তৈরি করে না, বরং অংশগ্রহণকারীদের পেশাদার কর্মসংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুণগত মান ও সফলতার ওপর আলোকপাত করে বলেন, বিশেষ করে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের হার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সদ্য সমাপ্ত ব্যাচের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৬৫ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সবাই ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং দেশের বিশাল যুবসমাজকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের সম্প্রসারণ অথবা নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে আরও হাজার হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ডিপ্লোমা ডিগ্রি সম্পন্ন করেও তরুণরা কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান পান না, অথচ বিটাকের এই স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরপরই তারা সরাসরি চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। এটি বিটাকের প্রশিক্ষণের মান এবং এর প্রতি দেশীয় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীর আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই চাকরি প্রাপ্তি এই কর্মসূচির কার্যকারিতাকে প্রমাণ করে।
শিল্প সচিব আরও জানান, বিটাকের চলমান দ্বিতীয় পর্যায়ের এই প্রকল্পটি আগামী বছরের জুনে সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দেশের শ্রমবাজারে এর ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি কিংবা অনুরূপ আরেকটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিটাকের মাধ্যমে কেবল দক্ষ চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি করা হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়ার ফলে অনেক প্রশিক্ষণার্থী নিজস্ব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উৎসাহিত হচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরে আরও নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।