বিশেষ প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের যেকোনো দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। ফলে অতীত কিংবা বর্তমান—যেকোনো সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ সমানভাবে তদন্তের আওতায় আনা সম্ভব।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি দেশের আইন, বিচারিক আদেশ এবং সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি কিংবা বর্তমান প্রশাসনের কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ এলে দুদকের উচিত সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তার তদন্ত করা। সরকার চায় সব আমলের দুর্নীতির ক্ষেত্রেই সমানভাবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসৃত হোক।
রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জানান, আদালতে কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন আওয়ামী লীগ অন্য কোনো নামেও রাজনীতি বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। যত দিন পর্যন্ত আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, তত দিন দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে এবং আইনের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালন করা হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের আইনি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বেশ কিছু বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার সব ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
তথ্য উপদেষ্টা স্মরণ করিয়ে দেন যে, দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি হওয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিছু গণমাধ্যম এই নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না উল্লেখ করে তিনি দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সংবাদমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ব্রিফিংয়ে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাম্প্রতিক কার্যক্রমের খতিয়ানও তুলে ধরা হয়। তথ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে ভারত সীমান্তে ১৬৫টি এবং মিয়ানমার সীমান্তে ১৫টি অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ ইন’-এর চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।