আইন আদালত ডেস্ক
ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না এবং এই নির্বাচনী আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আদালতের এই আদেশের পর চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচন হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটাররা পুনরায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
মামলার বিবরণ ও পটভূমি থেকে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ খেলাপি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনে তার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করা হলেও, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিল শুনানির শেষ দিনে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ বলে ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হলে, হাইকোর্ট বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখার পক্ষে আদেশ দেন।
হাইকোর্ট বিভাগের ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবং আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগকে ভিত্তি করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করেন একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আনোয়ার সিদ্দিকী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থীর করা ওই লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। সে সময় এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে সর্বোচ্চ আদালত উল্লেখ করেছিলেন যে, আসলাম চৌধুরী যদি নির্বাচনে জয়ী হন, তবে এই আপিল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনের ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
আজ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায়ের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হলো। একই সাথে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটল। নির্বাচন কমিশন এখন আদালতের নির্দেশনার আলোকে এই আসনে উপ-নির্বাচন বা নতুন করে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তফসিল ঘোষণা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।