খেলাধূলা ডেস্ক
চলতি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি কিংবা প্রতিপক্ষের সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্মকে একেবারেই আমলে নিচ্ছেন না ইকুয়েডরের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী ও ভৌগোলিক উচ্চতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ইকুয়েডর নিজেদের সেরা খেলাটি খেলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। গ্রুপপর্বে জার্মানির মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে নকআউটে আসা ইকুয়েডর এই ম্যাচেও মাঠের লড়াইয়েই ভাগ্য নির্ধারণ করতে চায়।
গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর। তবে শেষ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে নাটকীয়ভাবে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি। অন্যদিকে, স্বাগতিক মেক্সিকো গ্রুপপর্বে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে তিনটি ম্যাচই জিতেছে। এ সময়ে তারা কোনো গোল হজম না করে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে মোট ছয়বার। কাগজ-কলমের এই পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে মেক্সিকোকে অনেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখলেও তা নিয়ে ভাবছেন না ইকুয়েডর কোচ। তার মতে, ফুটবলে পূর্বানুমানের কোনো ভিত্তি নেই এবং মাঠের ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সই মূল পার্থক্য গড়ে দেয়।
ম্যাচের ভেন্যুতে পৌঁছানোর পথে বড় ধরনের ভ্রমণজটের মুখোমুখি হতে হয়েছে ইকুয়েডর দলকে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকেল পাঁচটায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও, বিমান ও যাতায়াতজনিত বিলম্বের কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন ঘণ্টারও বেশি দেরিতে, রাত আটটা বিশ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছায় দলটি। নকআউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ঘাটতি এবং এই দীর্ঘ যাতায়াত দলের শারীরিক প্রস্তুতিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে ইকুয়েডর কোচ এই বিলম্বকে ম্যাচের ফলাফলের ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ। পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে মাঠে পূর্ণ শক্তি দিয়ে লড়াই করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
খেলার কৌশলগত দিক ছাড়াও ইকুয়েডরের জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে মেক্সিকো সিটির সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা এবং আজতেকা স্টেডিয়ামের বৈরী পরিবেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে বাতাস পাতলা হওয়ায় ভিনদেশি ফুটবলারদের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া এবং শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা বেশ কঠিন হয়। এর পাশাপাশি ঘরের মাঠে মেক্সিকান সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার ও প্রবল মানসিক চাপ সামলানো যেকোনো সফরকারী দলের জন্যই বড় মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা। এই বিষয়গুলোকে বাস্তবসম্মত ও কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে মেনে নিয়েও বেকাসেসে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখছেন এবং তার দল এই ঐতিহাসিক মঞ্চে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে মুখিয়ে আছে।