রাজধানী ডেস্ক
মাদ্রাসাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতনবঞ্চিত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সমস্যার টেকসই সমাধান আগামী জুলাই মাসেই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। পূর্বের বকেয়াসহ নিয়মিত বেতন প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআইবি) অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অনন্য সাধারণ কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশেষ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন বিবেচনায় সারা দেশে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের বেতন-ভাতার জন্য বাজেটে কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান শিক্ষা প্রশাসনকে গভীর আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগের পর বেতন-ভাতা বাবদ অতিরিক্ত ৫০১ কোটি টাকার প্রয়োজন দেখা দিলেও পূর্ববর্তী বাজেটে এর কোনো প্রতিফলন ছিল না। এর মধ্যে কেবল ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনের জন্যই প্রয়োজন ২৯ কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিতকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, যার সুফল শিক্ষকরা আগামী মাস থেকেই পাবেন।
অনুষ্ঠানে ইসলামি শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি শিক্ষাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কিংবা মতাদর্শের হাতিয়ার হতে দেবে না সরকার। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ও জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসন সম্পূর্ণ সংকল্পবদ্ধ। বিগত জাতীয় নির্বাচনের পরপরই এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক ভিন্ন মতাদর্শের কারণে সাতজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছিলেন, যা অন্য কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটেনি। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ বন্ধ করা আবশ্যক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের এবতেদায়ী মাদ্রাসার এমপিওভুক্তি এবং শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছেন। পূর্ববর্তী নীতিমালা অনুযায়ী ৩৫ শতক জমি এবং এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) কর্তৃক শিক্ষক নিবন্ধনের শর্তে এমপিওভুক্তির বিধান ছিল। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আকস্মিকভাবে জমির পরিমাণ ২৩ শতকে নামিয়ে এনে নতুন শর্ত জুড়ে দেয়। এছাড়া ব্যানবেইস (বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো) কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোড ও তথ্যাদির সঠিক বাস্তব পরিদর্শন বা ইন্সপেকশন না থাকায় বর্তমানে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত জটিলতা তৈরি হয়েছে। কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ কিছু মতবিরোধের কারণেও সরকারের পক্ষে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা দ্রুত গুছিয়ে আনা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিক্ষা খাতের চলমান এই সকল প্রশাসনিক, আইনি ও আর্থিক অসঙ্গতি দূর করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। জুলাই মাস থেকে শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা চালু হলে শিক্ষাখাতের বর্তমান অচলাবস্থা অনেকাংশেই কেটে যাবে এবং মাঠপর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।