জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য সংলগ্ন এলাকায় মেট্রোরেলের ওভারহেড উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারে গ্যাস বেলুন আটকে যাওয়ার ঘটনায় সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। আজ রবিবার (২৮ জুন) সকাল পৌনে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তারে আটকে থাকা বেলুনগুলো অপসারণ করার পর মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখতে হয়।
এমআরটি লাইন-৬–এর দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, রবিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি সুইপিং ট্রেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনসংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের সামনের এলাকা পার হচ্ছিল। এ সময় চালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ওভারহেড ক্যাটনানি বা উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারে কয়েকটি গ্যাস বেলুন আটকে থাকতে দেখেন। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই বৈদ্যুতিক লাইনে যেকোনো বহিরাগত বস্তুর উপস্থিতি বড় ধরনের শর্ট সার্কিট বা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে কারিগরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের প্রচেষ্টায় বেলুনগুলো অক্ষত অবস্থায় লাইনের ওপর থেকে অপসারণ করতে সক্ষম হয়। এরপর পুরো লাইন নিরাপদ ঘোষণা করা হলে সকাল ৭টার পর পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ঢাকার মেট্রোরেলের ওভারহেড বিদ্যুতের তারে ঘুড়ি, ফানুস, শপিং ব্যাগ ও কাপড় আটকে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব ও উদযাপনের সময় ওড়ানো ফানুস বা গ্যাস বেলুন বাতাসের টানে মেট্রোরেলের লাইনে চলে আসে। মেট্রোরেলের ওভারহেড ক্যাটনারি লাইনে সাধারণত ১৫০০ ভোল্ট ডিসি (ডাইরেক্ট কারেন্ট) বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এই উচ্চ ভোল্টেজের লাইনে কোনো ধাতব বা দাহ্য পদার্থসহ যেকোনো বস্তু আটকে গেলে তা ট্রেনের প্যান্টোগ্রাফ এবং লাইনের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে। এতে করে পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
জনবহুল ঢাকা শহরে মেট্রোরেল বর্তমানে অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় গণপরিবহন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই সেবা ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। ফলে মাত্র কয়েক মিনিটের সাময়িক বিঘ্নও স্টেশনে স্টেশনে যাত্রীসাধারণের দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি করে এবং চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকের এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবারও মেট্রোরেল রুটের দুই পাশে বসবাসকারী বাসিন্দা এবং সাধারণ নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে মেট্রোরেল লাইনের কাছাকাছি এলাকায় ঘুড়ি ওড়ানো, ফানুস ওড়ানো বা গ্যাস বেলুন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের নিরাপত্তা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হয়।