বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওবিআই, এসজিপি, পিএসসি-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার সেনানিবাসস্থ সেনা সদরে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
সেনা সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। আলোচনায় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে চলমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের বিষয়টিও এই বৈঠকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়।
কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার এই বৈঠকটি বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সামরিক ও কৌশলগত যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দক্ষিণ কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং উচ্চপর্যায়ের সামরিক সফর বিনিময়ের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদল ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে এই দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আগামীদিনে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।