আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত ‘মনুমেন্ট টু দ্য পিপলস হিরোজ’-এ পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি দেশটির বীরদের স্মৃতির প্রতি এই গভীর শ্রদ্ধা জানান। এটি দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপাক্ষিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং সামরিক রীতিতে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত করেন। এই আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর এটি ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। চীনের বিপ্লব ও স্বাধীনতার জন্য প্রাণোৎসর্গকারী বীরদের প্রতি আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রনায়কদের শ্রদ্ধা জানানোর দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে। বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের এই শ্রদ্ধা নিবেদন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই সফরের গুরুত্ব অপরিসীম।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটল, যা আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও বেগবান করবে।