বিশেষ প্রতিবেদক
চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে বাংলাদেশের সরকার প্রধান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম চীন সফর। এই সফরটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বেইজিং চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই গেস্ট হাউস’-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীসহ সফরসঙ্গীরা এই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনেই অবস্থান করবেন। এর আগে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে হাই-স্পিড ট্রেনযোগে যাত্রা করেন তিনি। ৪ ঘণ্টারও বেশি সময়ের এই রেলযাত্রায় চীনের আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামোর বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রতিনিধি দলে যুক্ত রয়েছেন সরকারের একাধিক উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। এছাড়া প্রশাসনিক ও প্রচার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনিসহ পদস্থ কর্মকর্তারা বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন।
বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে, বুধবার সকালে চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’র বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি বিশ্বনেতৃবৃন্দ, বহুজাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং শীর্ষ উদ্যোক্তাদের সামনে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক নীতি, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনা এবং বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলোও এই সম্মেলনে গুরুত্ব পায়।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বৈদেশিক সফর হলেও দূরপ্রাচ্যের পরাশক্তি চীনের মাটিতে এটিই প্রথম। এর আগে গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুই দিনের দ্বিপাক্ষিক সফর সফলভাবে শেষ করে সফরসঙ্গীদের নিয়ে সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া ও চীন সফরটি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় পরীক্ষা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ে অবস্থানকালে চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন নিয়ে গভীর আলোচনা হতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের মতো ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোও আলোচনার টেবিলে স্থান পেতে পারে। এই দ্বিপাক্ষিক সফর শেষ করে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা প্রত্যাবর্তন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।