বিশেষ প্রতিবেদক
আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় আসন্ন পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি, শিক্ষাজীবনের সময়ক্ষেপণ রোধে শিক্ষাসূচির আধুনিকায়ন, পরীক্ষা মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পাবলিক পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে মন্ত্রী প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাক-নির্বাচনী (প্রিটেস্ট) ও নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষার পাশাপাশি ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা সচল রাখার নির্দেশনা দেন। এই বিশেষ পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের সম্মানীর বিষয়টি স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে আলোচনা করে নির্ধারণ করার পরামর্শ দেন তিনি। আগামী ২ জুলাই থেকে দেশব্যাপী একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
শিক্ষাজীবনে সময়ক্ষেপণ কমিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরীক্ষা সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দুই বছরের নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পরপরই যাতে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ করা যায়, সেই লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসেই গ্রহণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করতেই প্রায় ২০ বছর বয়স হয়ে যেত। এতে দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সুযোগ ব্যাহত হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়কে সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাবলিক পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম, নকল ও ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। যুগের সাথে সাথে নকলের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রচলিত আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সভায় সতর্ক করে বলা হয়, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল জালিয়াতি কিংবা প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে কেবল সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীই নয়, প্রতিষ্ঠানপ্রধানকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। প্রশ্নফাঁস রোধে এবার সারা দেশে একক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল দুর্বল দিকসমূহ চিহ্নিত করে নিবিড় তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের গুণগত মান নিশ্চিত করতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও দৃশ্যমান সংস্কার আনা হচ্ছে। অতীতে একজন শিক্ষককে অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়ার ফলে অনেক সময় যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। বর্তমান শিক্ষাবর্ষ থেকে পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, পরীক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রত্যেককে সীমিত সংখ্যক খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, খাতা স্যাম্পলিং বা নমুনা যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়নের নিরপেক্ষতা ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান এবং বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।