বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারি দফতর ও কলকারখানাগুলোতে পর্যায়ক্রমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসারে বিদেশি বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারে খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে চিফ হুইপ বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঘাটতির কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব সরকারি অফিস ও শিল্পকারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার চুক্তি সম্পাদিত হতে যাচ্ছে, যা দেশের পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান চিত্র এবং জাতীয় বাজেটে এই খাতের বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সৌরবিদ্যুৎ খাতের সাম্প্রতিক দ্রুত অগ্রগতির অভিজ্ঞতা ও মডেলে আলোকপাত করেন বক্তারা।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে মূলত ব্যক্তিগত খাতের বিনিয়োগ এবং উন্মুক্ত অর্থায়ন কাঠামোর মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দেশটির এই মডেল বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ সহজ করার তাগিদ দেওয়া হয়।
সেমিনারে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের শিল্প উৎপাদন ও গৃহস্থালি খাতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে সৌরবিদ্যুৎ সবচেয়ে কার্যকর ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিকল্প উৎস হতে পারে। আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন— কয়লা, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতির ওপর প্রতিনিয়ত চাপ বাড়াচ্ছে। এই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানির হিস্যা রাষ্ট্রীয় মূল গ্রিডে বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা আরও বলেন, আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক রেয়াত দেওয়া এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এই খাতের দ্রুত বিকাশ সম্ভব। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২০৪১ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয় সেমিনার থেকে।