1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
লালমনিরহাটে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে এসপিসহ আহত ৩০ বর্ষা মৌসুমের পর দেশে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নিউইয়র্কে ইকোসক মানবিক অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে আরও ১০ জেলা, সমন্বিত প্রকল্পে জোর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৬ জন গ্রেফতার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের বদলে সমস্যা সমাধানের অংশীদার মনে করে সরকার: তথ্যমন্ত্রী রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ডিএমপির ২২০১ মামলা, ডাম্পিং ও রেকার সাড়ে ৭ শতাধিক পবিত্র আশুরায় তাজিয়া মিছিলে ধারালো অস্ত্র ও আতশবাজি নিষিদ্ধ: ডিএমপি কমিশনার আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে যায় না: মির্জা ফখরুল মাঠে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝেই নেইমারের পরিবারে নতুন অতিথি আসার বার্তা

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ডিএমপির ২২০১ মামলা, ডাম্পিং ও রেকার সাড়ে ৭ শতাধিক

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

রাজধানী ডেস্ক

ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ২০১টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে গত সোমবার (১৫ জুন) দিনব্যাপী এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। আইন অমান্য করায় বিপুল সংখ্যক মামলা দায়েরের পাশাপাশি শত শত যানবাহন ডাম্পিং ও রেকার করা হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে মতিঝিল ও উত্তরা বিভাগে। অন্যদিকে, আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। ঢাকা মহানগরের আটটি ট্রাফিক জোনে একযোগে পরিচালিত এই অভিযানের বিশদ পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো।

ডিএমপির তথ্যমতে, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে আইন লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ৪৪৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি বাস, ২টি ট্রাক, ২২টি কাভার্ডভ্যান, ১০৩টি সিএনজি এবং ২৪৪টি মোটরসাইকেল রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা হয়েছে উত্তরা বিভাগে, যেখানে ৪৩টি বাস, ১টি ট্রাক, ৮টি কাভার্ডভ্যান, ৮৪টি সিএনজি ও ১৮৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৩৪টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মিরপুর বিভাগে মোট ৪০৪টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৮টি বাস, ১৩টি ট্রাক, ১৬টি কাভার্ডভ্যান, ৫৯টি সিএনজি এবং ২৪১টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ১৬টি বাস, ২০টি ট্রাক, ২২টি কাভার্ডভ্যান, ৩৬টি সিএনজি ও ৯৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৪২টি মামলা হয়েছে। গুলশান বিভাগে মোট ২৩৭টি মামলার বিপরীতে ২৯টি বাস, ১টি ট্রাক, ১১টি কাভার্ডভ্যান, ৩০টি সিএনজি ও ৮০টি মোটরসাইকেল জব্দ ও জরিমানা করা হয়। তেজগাঁও বিভাগে ৯টি বাস, ৩টি ট্রাক, ৭টি কাভার্ডভ্যান, ৪৭টি সিএনজি ও rigid মোটরসাইকেলসহ মোট ২০০টি মামলা দেওয়া হয়েছে। লালবাগ বিভাগে ১৪টি বাস, ৮টি ট্রাক, ৮টি সিএনজি ও ১১২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬৭টি এবং রমনা বিভাগে ৯টি বাস, ১টি ট্রাক, ১টি কাভার্ডভ্যান, ৫টি সিএনজি ও ১৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৭১টি মামলা দায়ের করেছে ট্রাফিক পুলিশ।

অভিযান চলাকালীন কেবল ব্যবস্থাপনামূলক ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি পুলিশ। যত্রতত্র পার্কিং, ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে স্পট অ্যাকশনে যাওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করা মোট ৪৩৩টি গাড়িকে বিভিন্ন ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে সড়কের স্বাভাবিক গতি সচল রাখতে এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩১৩টি গাড়িকে রেকার করা হয়েছে।

নগরায়ণ বিশেষজ্ঞ ও ট্রাফিক কর্মকর্তাদের মতে, ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসন এবং সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের নিয়মিত অভিযানের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং ফুটপাতে যানবাহন উঠিয়ে দেওয়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই অভিযান চালকদের আইন মান্য করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা কেবল জরিমানা বা মামলাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার তাগিদ দিয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষা, পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ডিএমপির এই চিরুনি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য মহানগরীর সর্বস্তরের চালক ও মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026