বাংলাদেশ ডেস্ক
পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪২২ জন বাংলাদেশি হাজি নিরাপদভাবে দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে পরিচালিত মোট ১৩৮টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান। দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ longing ১০৯ জন ফিরেছেন। তবে হজ পালনের প্রক্রিয়া ও পরবর্তী সময়ে এখন পর্যন্ত ৫২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে ইন্তেকাল করেছেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ বুলেটিন থেকে জানা গেছে, ১৬ জুন পর্যন্ত ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি এককভাবে ২৪ হাজার ৪৯৯ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদি এয়ারলাইনস ১৯ হাজার ৮২৭ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৩৮০ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে ৪ হাজার ৭১৬ জন হাজি দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
হজযাত্রীদের নির্বিঘ্নে দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত যে ১৩৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, তার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৬৭টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫০টি এবং ফ্লাইনাস ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। অবশিষ্ট হজযাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সির মাধ্যমে যান ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। গত ৩০ মে থেকে হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন শেষ ফিরতি ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে।
এদিকে, হজ শুরুর পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ৫২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। মৃতদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কায় সর্বোচ্চ ৩৭ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন হজযাত্রী মারা যান। সৌদি আরবের স্থানীয় আইন অনুযায়ী, পবিত্র ভূমিতে মৃত্যুবরণকারী হাজিদের মক্কা ও মদিনার নির্ধারিত কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবা ও তথ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ মেডিকেল টিম ও আইটি ডেস্ক সার্বক্ষণিক কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে স্থাপিত বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৭৫১টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র (ই-প্রেসক্রিপশন) প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে হজযাত্রীদের হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার ও দিকনির্দেশনাসহ ২৭ হাজার ৯২০টি ডিজিটাল সেবা দেওয়া হয়েছে।
বাকি ২১ হাজারের বেশি হজযাত্রীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হজ ক্যাম্প ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজিদের আগমনী আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন রাখা হয়েছে।