1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ডিএমপির অভিযানে ২১১৪ মামলা, ৩৯৫ গাড়ি ডাম্পিং ইন্টারনেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে বাড়ছে ‘এআই স্লপ’ বা নিম্নমানের কনটেন্ট কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ পরিকল্পনা পেশ রাজধানীর আদাবরে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ গ্রেফতার ৬ এআই প্রযুক্তির একক আধিপত্য ও ডেটা উপনিবেশবাদের মুখে বৈশ্বিক সংকট বাজেটের পর দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী দুই বছর পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফিরছেন অভিনেতা অপূর্ব, ২৫ জুন মুক্তি পাচ্ছে ‘হেডলাইন’ ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চার জনের মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ৯৬৬ কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আসছে বড় প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রী স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের অনুমোদন

কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আসছে বড় প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং কৃষিখাতই হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি। তিনি বর্তমান সরকারের লক্ষ্যকে একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু ও প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেন, যেখানে উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ তথ্য চালিত হবে।

বুধবার (১৭ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত দুটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা এবং টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের পৃথক প্রশ্নের জবাবে দেশের কৃষি বিপ্লব এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন তিনি।

কৃষিখাতের রূপান্তর ও মেহনতি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ‘আই হ্যাব অ্যা প্ল্যান’ কর্মসূচির আওতায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও ন্যায্য মূল্যে সেচ, সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের লক্ষ্যে গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২০,৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষায় সরকার কর্তৃক গৃহীত বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। চলতি ২০reset২৫-২০২৬ অর্থবছরে এ লক্ষ্যে ১,৫৬৭.৯৬ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন সম্পর্কে তিনি জানান, ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার সুলভ মূল্যে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর পাশাপাশি উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতে সরাসরি ধান ও গম সংগ্রহের পাশাপাশি দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে। একই সাথে কৃষিখাতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) এবং ড্রোনের মতো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের পরিকল্পনা সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি ও বিস্তৃত নদী ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ বাড়ছে, যা অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পানিসম্পদ খাতে পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১৩ মে ৩৪,৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের ১ম পর্যায় বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস পাবে এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে। এছাড়া এই প্রকল্প থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা দেশের জিডিপিতে অতিরিক্ত ০.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ করবে। পরিবেশের টেকসই উন্নয়নে আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে এবং উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026