সংসদ প্রতিবেদক
কর-জিডিপি (ট্যাক্স-টু-GDP) অনুপাত বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক অনলাইন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কর আইন প্রতিপালনে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন তিনি।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ্র এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এদিন সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত না থাকায় তার লিখিত জবাবটি স্পিকারের অনুমতিতে টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতোমধ্যে একটি ‘মিডিয়াম অ্যান্ড লং-টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি’ (এমএলটিআরএস) গ্রহণ করেছে। দেশের রাজস্ব খাতের আধুনিকায়নে এনবিআরের এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার অধীনে করদাতাদের জন্য এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন সেবা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া অনলাইন উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে কর ফাঁকির ঝুঁকি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ্ তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৩ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে নেপালের মতো ছোট অর্থনীতির দেশে এই হার প্রায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় বাড়াতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
উত্তরে প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজস্ব নীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় ও কর অব্যাহতি কমিয়ে সরকারের রাজস্ব ব্যয় হ্রাস করা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে ‘ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর ছাড়ের পরিধি ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কর আইনকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সরল ও সহজবোধ্য করা হয়েছে, যাতে করদাতাদের মধ্যে কর প্রদানের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
রাজস্ব আদায়ের আওতা বাড়াতে বিভিন্ন শিল্প খাতের গড় সূচক ব্যবহার করে ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, ঝুলে থাকা মামলা ও বকেয়া রাজস্ব আদায়, নিলাম প্রক্রিয়া গতিশীল করা, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন এবং অনিষ্পন্ন চালান নিষ্পত্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা ও রাজস্ব বাড়াতে ‘ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩’ এবং ‘কাস্টমস স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৪-২০২৮’ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সচল করার লক্ষ্যে ‘স্ট্রেংথেনিং ডোমেস্টিক রেভিনিউ মোবিলাইজেশন প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব সমন্বিত পদক্ষেপের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত দুই অঙ্কের ঘরে অর্থাৎ ১০ শতাংশে পৌঁছাবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।