নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সন্তোষজনক থাকায় প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি চালের বাজার ও নয়াবাজার কাঁচাবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের খাদ্যশস্যের মজুত পরিস্থিতি ইতিবাচক উল্লেখ করে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের আশ্বস্ত করেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেন।
বাজার পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সাধারণত বাজেট ঘোষণার পর এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। তবে এবার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পরও চালের পাইকারি ও খুচরা বাজার সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে নতুন ও পুরাতন চালের ক্ষেত্রে দামের কিছুটা স্বাভাবিক তারতম্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে মূল্যের কোনো ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যায়নি। সরকার বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
দেশের বর্তমান চালের বাজার ও সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ চাল মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকায় ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই। চাল ছাড়াও অন্যান্য সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর মূল্য বর্তমানে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এবং স্থিতিশীল রয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটায় মূল্যের আকস্মিক পরিবর্তনের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাজার পরিদর্শন দলে উপস্থিত খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী দেশের খাদ্য মজুত ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারি গুদামগুলোতে চাল মজুত ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। তাছাড়া সরকারের চলতি মৌসুমের বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে চলছে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করেছে।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি ও সঠিক তথ্য যাচাই না করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে এমন কোনো খবর বা গুজব পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কৃত্রিম সংকট বা মূল্যের বিষয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ালে তা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যার ভুক্তভোগী হন সাধারণ ভোক্তারা। সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত তদারকি অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।