রাজধানী ডেস্ক
বকেয়া বেতন ও অর্জিত ছুটির টাকাসহ ৭ দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকার মহাখালী-তেজগাঁও সংযোগ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা সড়কটিতে অবস্থান নেওয়ায় এর দুই পাশে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ব্যস্ততম এই যোগাযোগড়কে আকস্মিক অবরোধের ফলে মহাখালী, তেজগাঁও, গুলশান ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও অফিসগামী মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট তৈরি পোশাক কারখানার শত শত শ্রমিক মহাখালী ও তেজগাঁও সংযোগ সড়কের মোড়ে অবস্থান নেন। তারা সড়কের ওপর বসে পড়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়ক না ছাড়ার ঘোষণা দেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে তাদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য অর্জিত ছুটির অর্থ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে দাবি জানানো হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন বলে আন্দোলনরত শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান।
শ্রমিকদের অবরোধের ফলে মহাখালী থেকে গুলশান-১, বাড্ডা, এবং তেজগাঁও হয়ে ফার্মগেট ও মগবাজারগামী সব ধরনের গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকা পড়ে। যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ায় দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থাকা যাত্রীদের অনেককে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা যায়। বিশেষ করে অফিসগামী চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে বের হওয়া মানুষজন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে যানবাহনগুলোকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার নির্দেশনা দিলেও আশেপাশের ফিডার রোডগুলোতেও গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে ধীরগতি দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় থানা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের দাবিগুলোর বিষয়ে মালিকপক্ষের সাথে জরুরি আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। মালিকপক্ষ থেকে বকেয়া পরিশোধের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করছে পুলিশ। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন এবং ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।