খেলাধূলা ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘ ৬৮ বছর পর এক বিরল রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের পঞ্চম দিনে অনুষ্ঠিত পৃথক চারটি ম্যাচের সবকটিই ড্র বা সমতায় শেষ হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে একদিনের সূচিতে থাকা প্রতিটি ম্যাচ ড্র হওয়ার এমন ঘটনা এর আগে মাত্র একবারই ঘটেছিল। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বের সমীকরণ আরও জটিল আকার ধারণ করল।
বিশ্বকাপের পঞ্চম দিনের খেলায় মাঠে নেমেছিল বিভিন্ন মহাদেশের আটটি দল। দিনের প্রথম ম্যাচে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেনকে রুখে দেয় আফ্রিকা মহাদেশের দেশ কেপ ভার্দে; ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিসরের মধ্যকার লড়াইটি ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়। একই ব্যবধানে ড্র করে এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধি সৌদি আরব ও দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী দল উরুগুয়ে। দিনের শেষ ও সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইরান ও নিউজিল্যান্ড ২-২ গোলে সমতায় থেকে মাঠ ছাড়ে। আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণে ঠাসা চারটি ম্যাচেই দর্শকরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপভোগ করলেও কোনো দলই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি।
ফুটবল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরুর পর থেকে গত ৯৬ বছরে একদিনে চারটি ম্যাচ ড্র হওয়ার ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুবার। এর আগে আজ থেকে ঠিক ৬৮ বছর আগে, ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে এমন অভূতপূর্ব ঘটনা প্রথম দেখা গিয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে, ১৯৫৮ সালের ১৫ জুন গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচই সমতায় শেষ হয়েছিল। সেই দিন স্বাগতিক সুইডেন ও ওয়েলস গোলশূন্য ড্র করে। অন্যদিকে যুগোস্লাভিয়া ও প্যারাগুয়ে ৩-৩ গোলে, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া ২-২ গোলে এবং নর্দান আয়ারল্যান্ড ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যকার ম্যাচটি ২-২ গোলে অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় সাত দশক পর ২০২৬ সালের এই আসরে এসে আবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চে সাধারণত জয়-পরাজয়ের নাটকীয়তা এবং বড় দলগুলোর আধিপত্য বেশি দেখা গেলেও বর্তমান সময়ে বিশ্ব ফুটবলের শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। আধুনিক ফুটবলে তথাকথিত বড় ও ছোট দলগুলোর মধ্যকার কৌশলগত ও শারীরিক সক্ষমতার ব্যবধান ক্রমশ কমে আসছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক কোচিং পদ্ধতির সুবাদে তুলনামূলক কম পরিচিত বা দুর্বল দলগুলোও এখন পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে রক্ষণভাগ মজবুত রেখে সমানতালে লড়াই করতে পারছে। চলমান এই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শুরুতেই এমন ফল তারই ইঙ্গিত বহন করে। এই ফলাফলের কারণে নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে প্রতিটি দলের জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলোর গুরুত্ব ও সমীকরণ এখন অনেক বেশি জটিল হয়ে দাঁড়াল।